সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

GarlicGinger.jpg

রোগ প্রতিরোধে কাঁচা আদার পুষ্টিগুণ

আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে আদা অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি ভেষজ। নিয়মিত কাঁচা আদা খাওয়ার অভ্যাসের নানা প্রকার উপকারী দিক রয়েছে। কাঁচা আদা চিবিয়ে ও রস করে মধুর সাথে এবং রান্নায় ব্যবহার করা ছাড়াও আদা বিভিন্নভাবে খাওয়া যেতে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো থেকে শুরু করে শরীরের বেশ কিছু সমস্যা প্রতিরোধ ও নিরাময় করে আদা।

এক নজরে আদার গুনাগুন:
  • আদার রস শরীর শীতল করে এবং হার্টের জন্য উপকারী।
  • কাশি এবং হাঁপানির জন্য আদার রসের সাথে মধু মিশিয়ে সেবন করলে বেশ উপশম হয়।
  • ঠান্ডায় আদা ভীষণ উপকারী। এতে রয়েছে অ্যান্টি - ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট, যা শরীরের রোগ - জীবাণুকে ধ্বংস করে। জ্বর জ্বর ভাব, গলাব্যথা ও মাথাব্যথা দূর করতে সাহায্য করে।
  • বমি বমি ভাব দূর করতে এর ভূমিকা অপরিহার্য। তাই বমি বমি ভাব হলে কাঁচা আদা চিবিয়ে খেতে পারেন। এতে মুখের স্বাদ বৃদ্ধি পায়
  • অসটিও আর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস - এই অসুখগুলোয় সারা শরীরের প্রায় প্রতিটি হাড়ের জয়েন্টে প্রচুর ব্যথা হয়। এই ব্যথা দূর করে আদা। তবে রান্না করার চেয়ে কাঁচা আদার পুষ্টিগুণ বেশি।
  • মাইগ্রেনের ব্যথা ও ডায়াবেটিস জনিত কিডনির জটিলতা দূর করে আদা। গর্ভবতী মায়েদের সকালবেলা, বিশেষ করে গর্ভধারণের প্রথম দিকে সকালবেলা শরীর খারাপ লাগে। কাঁচা আদা দূর করবে এ সমস্যা।
  • দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, আদার রস দাঁতের মাড়িকে শক্ত করে, দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা জীবাণুকে ধ্বংস করে।
  • দেহের কোথাও ক্ষতস্থান থাকলে তা দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে আদা। এতে রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি এজেন্ট, যা যেকোনো কাটাছেঁড়া, ক্ষতস্থান দ্রুত ভালো করে।
  • রক্তের অনুচক্রিকা এবং হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম ঠিক রাখতেও আদা দারুণ কার্যকর। মুখের রুচি বাড়াতে ও বদহজম রোধে আদা শুকিয়ে খেলে বাড়বে হজম শক্তি।
  • আমাশয়, জন্ডিস, পেট ফাঁপা রোধে আদা চিবিয়ে বা রস করে খেলে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া যারা গলার চর্চা করেন তাদের গলা পরিষ্কার রাখার জন্য আদা খুবই উপকারী।
  • ঠান্ডায় টনসিলাইটিস, মাথাব্যথা, টাইফয়েড জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হওয়া, বসন্তকে দূরে ঠেলে দেয় আদা। ওভারির ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করে আদা।
আদার ১২টি উপকারিতা:
  • পরিমিত আদা খাওয়ার অভ্যাসে রক্ত - সঞ্চালন স্বাভাবিক হয়। আদায় রয়েছে ক্রোমিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও জিঙ্ক। এ উপাদানসমূহ রক্ত প্রবাহের প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে।
  • যানবাহনে চড়ার সময় কেউ কেউ অস্বস্তিতে ভোগেন বা কিছুক্ষণ গাড়িতে থাকার পর বমির প্রবণতা চলে আসে। আদা এক্ষেত্রে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
  • খাবার খাওয়ার পর পুষ্টি - উপাদানসমূহ যদি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ - প্রত্যঙ্গ ও কোষগুলোতে পরিপূর্ণভাবে না পৌঁছায়, সেক্ষেত্রে নানা রোগ - ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পুষ্টি উপাদানগুলো শোষণ করার ক্ষেত্রে আদা কোষসমূহকে সহায়তা করে।
  • ঠাণ্ডা লাগা ও ভাইরাস জ্বর প্রতিরোধে আদা বিশেষ ভূমিকা রাখে। আদার রস একটু গরম করে সমপরিমান মধুর সাথে মিশিয়ে দিনে ৩/৪ বার সেবন করলে ঠাণ্ডা লাগা ও ভাইরাস জ্বর নিরাময় ও প্রতিরোধে এক অব্যার্থ মহৌষধ। এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে হাজার হাজার বছর ধরে প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন রোগ - প্রতিরোধ বা নিরাময়ের ক্ষেত্রে আদার ব্যবহার চলে আসছে।
  • পেটের অস্বস্তি বা পীড়ায় আদা একটি আদর্শ পথ্য। হজমে সহায়তার পাশাপাশি খাবারের গুণাগুণ শরীরের বিভিন্ন অংশে পৌঁছে দিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে আদা। কিছু খাদ্যদ্রব্য খাওয়ার পর পেটব্যথায় ভোগার সমস্যা থাকলে, সেটা দূর হয়ে যাবে। পেটে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণও প্রতিরোধ করে এটি।
  • আদা কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে।
  • ব্যথা ও শরীরে যে কোন ধরনের প্রদাহ কমাতে কাজ করে আদা। প্রাকৃতিকভাবেই এতে রয়েছে ব্যথানাশক উপাদান।
  • ফুসফুসের সাধারণ যে কোন সংক্রমণ বা রোগের ক্ষেত্রে আদা বেশ কার্যকরী। সর্দি - কাশি, শ্বাস - প্রশ্বাসের সাধারণ সমস্যা দূর করে আদা। গলা ও স্বরতন্ত্রী পরিস্কার রাখে।
  • ওভারিয়ান ক্যান্সারের চিকিৎসায় আদা অন্যতম ভূমিকা রাখে।
  • প্রতিদিন নিয়মিত সামান্য আদা খাওয়ার অভ্যাস আপনার শরীরের রোগ - প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বিভিন্ন রোগে অক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুলাংশে কমে আসে।
  • স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমায় আদা।
  • সকালে কেউ কেউ অসুস্থ বোধ করেন। নিয়মিত আদা খান। এ সমস্যা থেকে অচিরেই নিষ্কৃতি পাবেন।
-
লেখক : ফুয়াদ সৌরভ

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

taste, healthy, preventive, ginger