সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

peanut-health.jpg

গবেষণা শিশুর অ্যালার্জি কমাতে বাদাম

চীনাবাদাম খাওয়ানোর ফলে তাদের ৮০ শতাংশ অ্যালার্জি ভালো হয়ে যায়। দি কিং’স কলেজ লন্ডন এর গবেষকরা জানান, তাদের মধ্যে যে অ্যালার্জি রয়েছে তা ‘প্রথমবারের মতো’ বাদাম খাওয়ার ফলে বেশিরভাগই কমে যায়।

শিশুদের সরাসরি চীনাবাদাম কিংবা বাদামজাত বাটার ও অন্যান্য পণ্য খাওয়ানো উচিত। কারণ এতে করে শিশুদের অ্যালার্জির ঝুঁকি খুব দ্রুত কমে যায়। সম্প্রতি নতুন এক গবেষণায় যুক্তরাজ্যের গবেষকরা এমনই তথ্য জানিয়েছেন।  বিবিসি জানায়, ৬২৮ জন শিশুর উপর গবেষণা চালিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

তাতে দেখা যায়, চীনাবাদাম খাওয়ানোর ফলে তাদের ৮০ শতাংশ অ্যালার্জি ভালো হয়ে যায়। দি কিং’স কলেজ লন্ডন এর গবেষকরা জানান, তাদের মধ্যে যে অ্যালার্জি রয়েছে তা ‘প্রথমবারের মতো’ বাদাম খাওয়ার ফলে বেশিরভাগই কমে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এ ধরনের অনুসন্ধান অন্যান্য অ্যালার্জির ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যেতে পারে। এমনকি চীনাবাদামে ডায়েটও নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। তবে বাবা মাকে এখনই ঘরে বসে এর ব্যবহার না করতে সতর্ক করে দিয়েছেন গবেষকরা।

গবেষণায় প্রাথমিকভাবে দুই ইহুদি শিশুর মধ্যে তুলনা করে দেখা হয়। তাতে দেখা যায় ইজরাইলি শিশুর শরীরে অ্যালার্জি পাওয়া যায়। আর ওই শিশু জীবনের শুরু থেকেই বাদাম খেতো। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যেরও এক ইহুদি শিশুকে দেখা যায়। কিন্তু যুক্তরাজ্যের শিশুর তুলনায় বাদাম খাওয়া ইজরাইলি শিশুর অ্যালার্জি কমপক্ষে ১০ বার কমে যায়।

এভাবে অ্যালার্জি আক্রান্ত ছয় শতাধিক শিশুর মধ্যে বাদামের প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা হয়। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত হয়। তাতে বলা হয়, ৪ মাস ধরে যেসব শিশু অ্যাজমায় আক্রান্ত হয়েছে তা মূলত শিশু বয়সের অ্যালার্জির লক্ষণ।

গবেষণায় বয়স ভেদে বিভিন্ন পর্যায়ের শিশুদের উপর অ্যালার্জির থেরাপি ও পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানো হয়। পাঁচ বছরের নিচের শিশু এবং তার ঊর্ধ্বের কিংবা একদম দুধ খাওয়া অবস্থার শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের শিশুরা এ গবেষণার আওতায় ছিল। যাদের বয়স পাঁচ বছরের নিচে তাদের সরাসরি বাদাম খেতে দেয়া হয়নি।

কারণ অ্যালার্জির কারণে তাদের শ্বাস কষ্ট বেড়ে যেতে পারে। তবে তাদের বাদামজাত খাবার দেয়া হয়।  তবে যাদের বয়স আড়াই বছরের নিচে তাদের সরাসরি বাদাম খাওয়ানো থেকে বিরত রাখা হয়। এভাবে প্রতি ১০০ শিশুর ক্ষেত্রে বাদাম বিষয়ক থেরাপি দেয়া হয়। তাতে পাঁচ বছর বয়সী ১৪ জন ছিল স্বাভাবিক অ্যালার্জিতে আক্রান্ত।

থেরাপিতে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৮৬ জনই অ্যালার্জির মাত্রা কমে যাওয়া অনুভব করে। এমনকি যেসব শিশু ইতিমধ্যে বাদামের ব্যাপারে কাতর, যাদের অ্যালার্জির মাত্রা ৩৫ থেকে ১১ শতাংশ, তারাও এতে ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছে।

প্রধান গবেষক প্রফেসর গিডিওন ল্যাক বলেন, ‘প্রথমবারের মতো এটি আমাদের জন্য বেশ উত্তেজনাকর একটা ব্যাপার ছিল। সত্যিকার অর্থেই আমরা এ ধরনের রোগের বেড়ে ওঠাকে প্রতিহত করতে পারবো।’ ল্যাক জানান, বাদামের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে উচ্চমাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের বেলায় ত্বকের প্রিক পরীক্ষাসহ বিভিন্নভাবে মূল্যায়ন ও নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

peanut, allergy, child, Health, protection, research, london