সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

vetchclose.jpg

সোহেব'স শখের শাক, কলাই শাক

খেসারী কলাই ডালজাতীয় ফসল। চাষ হয় শীতকালেই এবং একেবারে ফসলের ক্ষেতে। একে বাগানে কিংবা বাড়ির আশপাশে যাকে বলে পালানে চাষ সম্ভব নয়।কলাইশাক মূলত গাছটির ডগাটুকু।

শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না, কে বলে! শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায়, শোল-গজার- টাকি ঢাকা যায়, শিং-মাগুরও ঢাকা যায়। আরও ঢাকা যায় টেংরা-পুটি মাছ। সেই শাক কোনটি! শাকটি আর কিছু নয়, কলাই শাক।

শীত এলে গ্রামের মানুষ কলাই শাক খুব শখ করেই খায়। একজনের কাছে শুনেছি, বিদেশে ছেলের জন্যও নাকি কলাই শাক পাঠিয়েছেন এক মা। রাগ না করলে আরেকটি কথা জানিয়ে দিই, আমার ছোট্ট ভাতিজা বলেছে, ‌‌এই ছাক কাবো না। গলুতে কায়।

খেসারী কলাই ডালজাতীয় ফসল। চাষ হয় শীতকালেই এবং একেবারে ফসলের ক্ষেতে। একে বাগানে কিংবা বাড়ির আশপাশে যাকে বলে পালানে চাষ সম্ভব নয়। যাই হোক, কলাইশাক মূলত গাছটির ডগাটুকু। বাড়ির বউ-ঝিয়েরা অতিযত্নে একটি একটি করে কলাইগাছের ডগা তুলে আনেন। আর তা মুঠো করে ধরে বটিতে খুব সুক্ষ ভাবে কুচি কুচি করে কেটে নেন। তারপর রান্না।

তবে মন খারাপ করবেন না, আপনাকে সেই ক্ষেতে যেতে হবে না। ইদানিং ব্যবসায়ীদের সৌজন্যে ঢাকার রাস্তাঘাটেও ফেরি করে বিক্রি হয় কলাই শাক। এবার আসুন, জেনে নিই, স্বাদের কলাই শাক রান্নার খুটিনাটি। 

শুধু শাক হিসেবে রান্না:
শুধু শাক খেলে কলাই শাক রান্না খুবই সহজ। 

  • বাজারে কেনা শাকগুলোর শুধু কচি ডগাটা বেছে নিতে হবে। হাতের মুঠোয় গোছা গোছা করে ধরে ধারালো বটিকতে কুচি কুচি করে কেটে নিতে হবে। যত ছোট কুচি হবে, খেতে ততই মজা হবে। 
  • শাক কুচির সঙ্গে কাচামরিচ লম্বা ফালি করে নিতে হবে। পেয়াজ, রসুন কুচিও লাগবে পরিমান মতো। আর লাগবে সামান্য আদা কুচি। লাগবে পরিমানমতো লবণ। এগুলো একসঙ্গে নিয়ে একটি পাত্রে হালকা সেদ্ধ করে নিতে হবে। 
  • সেদ্ধ করার জন্য কোনো পানি লাগবে না। শাক একটু নেড়েচেড়ে সেদ্ধ করে নামিয়ে রাখতে হবে। 
  • তারপর কড়াই কিংবা পাত্রে পরিমান মতো শর্ষে তেল কিংবা ঘি নিন। তাতে সামান্য শুকনো মরিচ কুচি, পেয়াজ ও রসুন কুচি হালকা ভেজে নিন। এগুলো হালকা ভাজা হলে তাতে আগের সেদ্ধ শাকগুলো ঢেলে দিন। 
  • তারপর ৫-১০ মিনিট নেড়েচেড়ে নামিয়ে নিন। একটু খেয়ে দেখুন, স্বাদ ভালোই লাগবে। তারপর ধোয়া ওঠা গরম ভাতের সঙ্গে মাখিয়ে খান, মুখে স্বাদ লেগে থাকবে।

মাছের সঙ্গে রান্না: 
মাছের সঙ্গে কলাইশাক রান্নাও সহজ। 

  • শাকগুলো কুচি করে নিন। 
  • তারপর স্বাভাবিক রেসিপিতে মাছ রান্না শুরু করুন, মাছ কষানো মাঝামাঝিপর্যায়ে এলে শাকগুলো তাতে ঢেলে দিন। 
  • সাবধানে একটু নেড়ে নিন, যাতে মাছ ভেঙে না যায়। এরপর পরিমানমতো পানি দিন। 
  • ঝোল কম রেখে রান্না শেষ করুন। 

এই শাক দিয়ে মূলত শোল-গজার, টাকি, টেংরা, পুটি, বোয়াল, চিতল, পাঙ্গাস, রুই সব ধরনের মাছই রান্না করা যায়। শীতের সকালে জমানো কলাই শাকে মাছের ঝোল কিন্তু খারাপ লাগবে না। একবার খেয়েই দেখুন।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

রেসিপি, সুস্বাদু, গ্রামগঞ্জ, মাছ, শীতকাল, কলাই-শাক