সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

antioxidant-foods.jpg

উপকারী খাবার অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর কিছু খাবার

ভুট্টায় ভিটামিন ‘সি’, লুটেনিন এবং জিজ্যান্থিন যথেষ্ট পরিমানে রয়েছে। লুটেনিন এবং জিজ্যান্থিন আমাদের চোখের কোষগুলোকে সুস্থ্য রাখে।

আমাদের প্রতিদিনের খাবারে ভিটামিন, খনিজ লবন ও ফাইটোকেমিকেল হিসেবে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপস্থিত থাকে যা দেহকোষকে ফ্রী রেডিকেল দ্বারা ক্ষতি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 

কিছু গবেষক মনে করেন ফ্রী রেডিকেল হৃদরোগ ও ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী। তাই আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় বিপুল পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার রাখা উচিত। এজন্য আমাদের জেনে রাখা উচিত কোন কোন খাবার অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর।

টমেটোঃ  টমেটোতে রয়েছে প্রচুর লাইকোপেন নামক অ্যান্টঅক্সিডেন্ট যা রান্না করা টমেটোতে বেশি পরিমানে উপস্থিত থাকে। লাইকোপেনের উপস্থিতিতেই টমেটোর রঙ লাল হয়। টমেটো থেকে বেশি পরিমানে লাইকোপেন পেতে তাদেরকে সস বা জ্যাম এ পরিনত করা যায়। এছাড়া টমেটোতে রয়েছে ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’।

বেরীঃ তিন ধরনের বেরী রয়েছে- স্ট্রবেরী, ব্লুবেরী এবং র‍্যাস্পবেরী যা এন্থোসায়ানিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। এসব ফলে আরোও রয়েছে ভিটামিন ‘এ’ এবং কুয়ারসেটিন। কুয়ারসিটিন ক্যানসার প্রতিরোধ করে এবং ভিটামিন ‘সি’ চোখ সুস্থ্য রাখে।

পীচঃ পীচে রয়েছে লুটেনিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। লুটেনিন আমাদের হৃদপিণ্ড, ত্বক এবং চোখের সুস্বাস্থ্যের জন্য অতি প্রয়োজনীয়। এছাড়া পীচে রয়েছে ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’ এবং জিজান্থিন।

বাঁধাকপিঃ পাতাকপিতে রয়েছে ২০৬% ভিটামিন ‘এ’ এবং ১৩৪% ভিটামিন ‘সি’ যা আমাদের প্রতিদিনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের চাহিদা মেটায়। এছাড়া বাঁধাকপিতে থাকে লুটেনিন যা চোখ, ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে। 

খেজুরঃ  খেজুরে সব ধরনের ফাইটোকেমিকেল অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ। এতে আরোও রয়েছে বিটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন ‘সি’, নিওক্লোরোজেনিক এসিড এবং ক্লোরোজেনিক এসিড। ক্লোরোজেনিক এসিড রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

খরমুজঃ খরমুজ একটি উজ্জ্বল কমলা রঙের ফল যাতে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন, জিজ্যান্থিন এবং ভিটামিন ‘সি’। ভিটামিন ‘সি’ ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসজনিত রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।

ভুট্টাঃ ভুট্টায় ভিটামিন ‘সি’, লুটেনিন এবং জিজ্যান্থিন যথেষ্ট পরিমানে রয়েছে। লুটেনিন এবং জিজ্যান্থিন আমাদের চোখের কোষগুলোকে সুস্থ্য রাখে।

পালং শাকঃ  পালং শাক লুটেনিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। লুটেনিন আমাদের চোখ সুস্থ্য রাখে। এতে যথেষ্ট পরিমানে বিটা ক্যারোটিন এবং জিজান্থিন থাকে। ক্যারোটিন বার্ধক্যজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ করে। 

চেরীফলঃ চেরীফল দুই ধরনের ফাইটোকেমিকেলে পরিপূর্ণ- এন্থোসায়ানিন এবং কুয়ারসিটিন। এই দুই ধরনের ফাইটোকেমিকেল প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করে। চেরীফলে ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’ রয়েছে। 

ভিটামিন ‘সি’ কোলাজেন গঠনে সাহায্য করে এবং ত্বকের বয়সজনিত ছাপ দূর করে। এছাড়া চেরীফলে রয়েছে মেলাটোনিন যা অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে এবং নতুন কোষ গজাতে সাহায্য করে। 


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

অ্যান্টি-অক্সাইড, খাবার, টমেটো, খেজুর, বেরী, বাধাকপি, পালং-শাক